The Mighty INDIA TOUR: কোলকাতা টু দিল্লী বাই ‘কলকা মেল’ (পর্ব ৫)

আমার পাশের চেয়ারে সম্ভবত লিয়া বসেছিলো। লিয়ার কম্বলটায় ভাগ বসিয়ে সারা রাত এপাশ ওপাশ করলাম। এক পর্যায়ে কে জানি বললো সামনে নিচে শুয়ে আছে এক মহিলা, তার আচরণ সন্দেহজনক। মহিলাকে নজরে রাখা দরকার। সবাই পালাক্রমে মহিলার উপর চোখ রাখতে লাগলো। অবনীকে দেখলাম চেয়ার ছেড়ে উঠে নিচে শাল মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকা অপরিচিত মহিলাদের মাঝে ঘুমিয়ে পড়তে। অবনীর এই স্বভাবটা ভালো, যেখানে সেখানে ঘুমিয়ে পড়তে পারে।

প্রচন্ড ঠান্ডায় আমরা জমে যাচ্ছিলাম। মোটা সোয়েটার, কানটুপি, কম্বল কিছুতেই শীত মানছিলো না। আমি লাগেজ খুলে ওভারকোট বের করে পড়ে নিলাম। সাড়ে পাঁচটা থেকেই সবাই আস্তে আস্তে উঠতে লাগলো। ফ্রেশ টেশ হয়ে আমরা সবকিছু গুছিয়ে রাখলাম। অবনীও ঘুম থেকে উঠলো। আমি আশ্চর্য হয়ে দেখলাম অবনী যাদের সাথে ঘুমিয়েছে তারা হিজড়া। তবে এখানকার হিজড়ারা মোটেও ভীতিকর কিছু নয়। তারাও ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হতে লাগলো।

৬টার দিকে আমরা আবার নিচে নেমে জন আহারে নাস্তা খেতে গেলাম। অর্ডার দিলাম ২৫ রুপির ভেজ কাটলেট আর বাটার পাউরুটি। ভেজ কাটলেটটা অদ্ভুত লাল রঙের, খেতে ভালো না। তাড়াতাড়ি করে খেয়ে আমরা উপরে উঠে লাগেজ নামাতে লাগলাম। একটা মাত্র লিফট। সবাই দৌড়াদৌড়ি করে নামতে লাগলো। সাড়ে ছয়টার সময় আমরা নেমে দৌড় দিলাম ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। কিন্তু কোন ট্রেন আসে নাই দেখে আমরা ইতস্তত দাঁড়িয়ে রইলাম।

এত মানুষের জটলা দেখে স্টেশনের কয়েকজন গার্ড টাইপের লোক এগিয়ে আসলো। শুভ তখন আমাদের টিকেট দেখালো। উনারা বললো ট্রেন অত্যন্ত কম সময়ের জন্য থামবে। বগি নম্বর দেখে এক্ষুনি আমাদের দৌড়ে প্ল্যাটফর্মের যার যার বগি নম্বর লিখা জায়গাটাতে দাঁড়িয়ে থাকা দরকার। না হলে উঠার আগেই ট্রেন ছেড়ে দিবে। শুনে আমরা ভয় পেয়ে গেলাম। জুবায়ের, শুভ চিৎকার করে আমাদের সিট নম্বর আর বগি নম্বর বলতে লাগলো। আমরা একেকজন একেক বগিতে পড়েছি। সবার চেহারা রক্তশূন্য হয়ে পড়লো। অনেকেই বগি নম্বর জেনে দৌড়াতে লাগলো। আমার বগি নম্বর এস থ্রি আর সিট নম্বর ৬৭। শুনে আমি পাগলের মত লাগেজ নিয়ে দৌড়াতে লাগলাম। এর মধ্যে ট্রেন চলে আসলো। পিঠে ব্যাকপ্যাক, কাঁধে হ্যান্ড ব্যাগ আর হাতে ট্রলি এই নিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে এক সময় দেখলাম বগি নম্বর এস ওয়ান, বগি নম্বর এস টু- কিন্তু তারপর বগি নম্বর এ ওয়ান! এরপর এগিয়ে দেখলাম বগি এ টু। মেরুদন্ড দিয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেলো আমার। এখন আবার আমাকে এ বি সি ডি শুরু করে এস পর্যন্ত দৌড়াতে হবে? তার মানে আমি নিশ্চয়ই ট্রেন মিস করবো। আমার মাথায় কি ঘটে গেল আমি জানি না। আবার দৌড় শুরু করলাম। রুদ্ধশ্বাসে দৌড়ানোর এক পর্যায়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম আমার আশেপাশে পরিচিত কেউ নাই। কি করবো এখন? একে তো বগি খুঁজে পাচ্ছি না, তার উপর হাতে কোন টিকেট নাই। ট্রেনটাও যে কোন সময় ছেড়ে দিবে। কি হবে আমার?

হঠাৎ তানভীরকে দেখলাম ওর সুটকেসটা নিয়ে দৌড়াতে। পরিচিত একজনকে পেয়ে আমি আবার দৌড়াতে শুরু করলাম। দৌড়াতে দৌড়াতে এক সময় তানভীর ওর বগি পেয়ে গেলো। তারও কয়েকটা বগি পার হয়ে আমি আমার কাংখিত এস থ্রি লিখা বগি খুঁজে পেলাম। কোনমতে ট্রলিটা টেনে বগিতে উঠলাম। বেশি খুঁজতে হলো না, একটা খোপ পার হয়েই ৬৭ নম্বর সিট খুঁজে পেলাম। আমি তখনও জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছি। এর মধ্যে নিলয়, উর্মি আর চিং হাপাতে হাপাতে লাগেজ টেনে টেনে আমার খোপের মধ্যে আসলো।

আমরা দ্রুত আমাদের লাগেজগুলা সিটের নিচে রেখে ভালো করে তালা মারতে লাগলাম। একটু পর আবিষ্কার করলাম আমরা চারজন ছাড়াও আরও চারজনের সিট আছে এই খোপের মধ্যে, তারা যেহেতু আমাদের কেউ না- অবশ্যই তারা ‘বিদেশি’ মানুষ। চারজন ‘বিদেশি’ মানুষের সাথে একই খোপে আগামী প্রায় দেড় দিন কাটাতে হবে ভাবতেই আমাদের মেজাজ বিগড়ে গেলো। উর্মি মারাত্মক টেনশনে পড়ে গেলো। ও এক্সট্রা প্রটেকশন স্বরূপ আরও শিকল তালা কিনে ওর লাগেজে জড়াতে লাগলো। আর আমাদের এক খোপ পাশেই ট্রেনের ক্লিনার টাইপের লোকদের বসার ব্যবস্থা। বাংলাদেশি শুনে ওনারা বারবার সাবধান করে দিতে লাগলো আর বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন চুরির কথা মনে করিয়ে দিতে লাগলো। ওনাদের সাবধানতা অমান্য করার ফলে কেমন করে যাত্রীদের মোবাইল আর লাগেজ চুরি গেছে সেই সব কাহিনী বারবার বলতে লাগলো। সেই সব শুনে উর্মির ভয় আরও চৌদ্দগুন বেড়ে গেলো।

ততক্ষণে ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে টের পাচ্ছি মায়িশাদের কামরাতে কোন একটা গন্ডোগোল লেগেছে। কমিটির কয়েকজন অস্থির হয়ে ছোটাছুটি করছে। খানিক পরেই মায়িশা আর ঐশি ওদের লাগেজ টানতে টানতে রাগে গজগজ করতে করতে জাফরের সাথে আমাদের কামরা ক্রস করলো। ওদের কামরার সহযাত্রী কি সব জানি ঝামেলা করেছে তাই ওরা জাফর আর রাফাতের সাথে সিট বদল করছে। সব দেখে উর্মির প্রায় কাঁদো কাঁদো অবস্থা। তখন চিং আর নিলয় একের পর এক সান্তনা দিতে লাগলো। কয়েক মিনিট পর আমরা চিন্তা করলাম যে এখনো যেহেতু কোন বাইরের লোক আসে নাই তাহলে দেখাই যাক না কি হয়। যখন কেউ আসবে তখন দেখা যাবে। তার আগ পর্যন্ত আমরা চারজন মিলে আটটা সিট ব্যাগ রেখে দখল করে রাখলাম। তারপর আমরা ঘুরতে বের হলাম।

আমাদের পাশের খোপেই রিজভী, আফরা আর ইশ্তিয়াক ছিলো। আমরা হেঁটে হেঁটে এক কামরা থেকে বাম দিকে অন্য কামরায় যাই। বেচারা হিমির জ্বর। ওকে দেখলাম ওর সহযাত্রী মহিলার কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে থাকতে। একই খোপে রুবাইদাও ছিলো। ওর সাথে খানিক্ষণ গল্প করলাম। তারপর আরও সামনে গেলাম। সবশেষে নিশাত, অদিতিসহ ওরা ছয়টা মেয়ে একসাথে বসে ছিলো। এরপর একটা দলের সাথেই শুধু দেখা হওয়া বাকি ছিলো। সেটা প্রায় ২২ টা বগি পরে জেরিন, ফাহাদের দল। আলসেমির জন্য সেটাতে আর গেলাম না। আমাদের কামরার ডান দিকে অন্য কামরায় জাফর, রাফাত, মৌলি আর মজুমদারকে বসে থাকতে দেখলাম। ছাড়া ছাড়া ভাবে সিট পড়ায় সব খানে সবার মন কমবেশি খারাপ দেখেছিলাম। কিন্তু এই বগিতে এক্সট্রিম থমথমে অবস্থা। কথা বলে জানলাম, সহযাত্রী আংকেলের সাথে মায়িশা আর ঐশির মনোমালিন্য হওয়ায় কেউই আর স্বাভাবিক হতে পারছে না।

সবার সাথে দেখা করে আমরা বুঝলাম যে আসলে আমরা সব থেকে ভালো অবস্থায় আছি। আমাদের এখনও পর্যন্ত কোন সহযাত্রী নাই। আমাদের কামরা বেশ আলো ঝলমলে এবং খোলামেলা। আর পাশেই ক্লিনাররা থাকায় একটু পর পর অনারা ঝাড়ু দিচ্ছিলো আর এয়ার ফ্রেশ্নার দিচ্ছিলো। আমাদের কাছাকাছি বাথরুমটাও পরিষ্কার- কোন গন্ধ নাই তবে বদনাও নাই। পানির কলটা আরও অদ্ভূত, টিপকল বলা চলে ঐটাকে। সব কিছু চিন্তা করে আমরা পজিটিভ মনোভাব নিয়ে বসি। যার যার মালপত্র সুন্দর করে গুছিয়ে খোশমেজাজে বসি।

বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদ উঠতে লাগলো। একটু পর পর বিভিন্ন ফেরিওয়ালা আমাদের পার হয়ে যেতে লাগলো। বাদাম, চিপস, ডালমুট, ছোলা ভুনা, সিংগারা, কালোজাম, ড্রিংকস, তালা চাবি, খেলনা, চা, নারিকেল কুচি আরও হাজারো রকমের জিনিস। আবার ট্রেনের নিজস্ব চা, চাওমিন, রাতের খাবার আর দুপুরের খাবার ছিলো। আমার বেশ ঘুম পাচ্ছিলো। আমি হ্যান্ড ব্যাগটা মাথার কাছে রেখে কম্বল জড়িয়ে ছোটখাটো একটা ঘুম দিলাম।

ঘুম থেকে উঠে আমি আর সুমাইয়া শেয়ারে লাঞ্চ খেলাম ভাত, সবজি আর ডিম। দাম পড়লো ১১০ রুপি। খাওয়া শেষে একটা লুডু কিনে আমরা চারজন খেলা শুরু করলাম। এর মধ্যে বাথরুমে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি আর মায়িশা একটা বোতল কেটে ‘বদনা’ বানালাম। অনেকেই ঘুরতে আসলো আমাদের খোপের মধ্যে। আমাদের ‘ফার্স্ট ক্লাস’ আরাম দেখে সবাই ‘হিংসা’ করতে লাগলো। মুখে মুখে ছড়িয়ে গেলো আমাদের পরিষ্কার বাথরুম আর ‘বদনা’র কথা। দূর দূরান্ত বগি থেকে লোকজন আমাদের খোপে আসতে লাগলো ‘বদনা’ নিয়ে পরিষ্কার বাথরুমে যাওয়ার জন্য। চারটা খালি সিট থাকায় অনেকেই বসে গল্পগুজব করে। এক পর্যায়ে আমি কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকি। জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখলে বাংলাদেশের মতই দেখা যায়। ফসলের মাঠ আর মাঠ, কিন্তু কোন ঘর বাড়ি নাই। তবে বাংলাদেশ অনেক বেশি কালারফুল, দেখতে বিরক্ত লাগে না। ট্রেন একেকটা স্টেশনে থামে আর তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ছেড়ে দেয়। সবাই এর মধ্যেই ঝাঁপাঝাঁপি করে ওঠা নামা করে।

আস্তে আস্তে সন্ধ্যা নামতে থাকে, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে শীত। আমরা অনেক গল্প করতে থাকি। এক সময় আবার অন্যদের সাথে দেখা করার জন্য ঘুরতে বের হই। অবাক হয়ে আবিষ্কার করি রুবাইদার পাশে বসে আছেন একজন সাধু বাবা। জীবনে কোনদিন সামনা সামনি সাধু দেখেছি বলে মনে হয় না। সাধু বাবার পরনে গেরুয়া বসন, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা, কপালে লাল সাদা ডোরাকাটা দেওয়া। বিস্তর চুল দাড়ির মধ্যে উনার হাসি হাসি মুখটা দেখা যাচ্ছে। ফাহাদ রুবাইদার উপরের সিটে বসে মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে ‘ রুবাইদার পাশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’ কথাটা লিখে রেখেছে। আর যেই সামনে দিয়ে যাচ্ছে তাকেই দেখাচ্ছে স্ক্রিনটা। সবাই হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে লিখাটা দেখে। আর আমাদের হাসি দেখে সাধু বাবাও বেশ মজা পাচ্ছেন। উনি হিন্দিতে একবার বলেই ফেললেন এই কথা। ঘুরতে ঘুরতে বুঝলাম সবার মন মেজাজ বেশ ভালো আর আমাদের ‘বদনা’ সুপার হিট। এর মধ্যে জুবায়েরের সাথে খানিক্ষণ কথা বললাম ট্যুর শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে। আমি সব খুলে বললাম কি কি ভুল আমাদের হয়েছে, কি কি বিষয় আমাদের ক্লিয়ার করতে হবে, আর সবাইকে নিয়ে ট্যুরের উপর ওভারঅল একটা ব্রিফিংয়ের কথা বললাম। তারপর যখন নিজের কামরায় ফেরত যেতে থাকি তখন দেখি সাধু বাবা চলে গেছেন। রুবাইদা একাই বসে আছে। আসার সময় সামনে এক মহিলাকে দেখলাম দু হাতে দুই ভারি ব্যাগ নিয়ে আস্তে আস্তে হাঁটতে। হিন্দিতে উনি বললেন উনার সিট এস ফোর এ। আমিও বললাম আমিও সেইদিকেই যাচ্ছি। উনি অনুরোধ করলেন উনার ব্যাগটা টেনে দেওয়ার জন্য। আমি টেনে দিলাম। এক পর্যায়ে উনাকে এস ফোরে নামিয়ে দিয়ে আমি গেলাম মজুমদারদের কাছে। জাফর এক বুদবুদ বানানোর খেলনা পিস্তল কিনে বাতাসে খালি বুদবুদ ওড়াচ্ছে। মৌলি একটা কাপে করে কি যেন খাচ্ছে, জিজ্ঞেস করতেই বললো ‘কাপল ড্যান্স”। জিনিসটা আসলে কাপ নুডুলস কিন্তু লোকগুলোর উচ্চারণ শুনে ওরা মনে করে কাপল ড্যান্স। কৌতুহলী হয়ে এক কাপ কিনতেই বোঝা যায় আসল রহস্য।

াফেদ
প্রচন্ড শীতের সাথে লড়াইরত দুই দ্বিমিকবাসী (কৃতজ্ঞতায় সারাহ তাবাসসুম)

আমি যখন আবার ফিরে আসি তখন দেখি আমাদের খোপের সব চেয়ে উপরের দুইটা সিটে দুইজন লোক শুয়ে আছে আর নিচে একটু আগে পরিচয় হওয়া মহিলাটাকে টিটি টিকেট ইস্যু করে দিচ্ছেন আমাদের এখানে থাকার জন্য। মহিলার টিকেট নিয়ে কি যেন ঝামেলা হয়েছে। যাই হোক মহিলাকে আমরা নিচের একটা সিট ছেড়ে দেই। উনি ব্যাগ খুলে একটা ভর্তা হয়ে যাওয়া সুন্দর কেক বের করে আফসোস করতে থাকেন যে কেকটা নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের অবশ্য খাওয়ার জন্য সাধেন একবার। বলেন যে, ওনাদের কেকের দোকান আছে। স্বামী দিল্লী চাকরি করেন – তার জন্যই কেক নিয়ে যাচ্ছেন।

ডিনার করি আমি আর তমা শেয়ারে ১০০ রুপি দিয়ে। আইটেম ছিলো রুটি, চিজের টুকরা দেওয়া সবজি আর ডাল। সবাই ডিনার খেয়েদেয়ে শোয়ার ব্যবস্থা করি। আমি নিচে, উর্মি আর চিং মাঝের দুই সিটে দুইজন। আর আমাদের সাথে ৯০ ডিগ্রী আঙ্গেলে নিচে নিলয়, ওর উপরের সিটটা একবার ফাঁকা থাকে একবার কেউ এসে বসে। নিলয় আমাদের সব গুলো ব্যাগ প্যাক নিয়ে ওর সিটে গুটিশুটি মেরে বসে থাকলো। আমরা অনেক বললাম ব্যাগগুলো নামিয়ে দিতে কিন্তু ও কিছুতেই রাজি হলো না। বারবার বলতে লাগলো, তোরা ঘুমা, টেনশন করিস না, আমি জেগে আছি- বলে শাল মুড়ি দিয়ে বসে থাকলো।

আর আমি জানালার ফাঁক দিয়ে ঢোকা হিহি ঠান্ডা বাতাস বন্ধ করার জন্য মাস্কিং টেপ লাগালাম। আমার পাশের মহিলা বড়বড় চোখ করে সেটা দেখলো। তারপর শোয়ার সাথে সাথেই ঘুম।

 

One Reply to “The Mighty INDIA TOUR: কোলকাতা টু দিল্লী বাই ‘কলকা মেল’ (পর্ব ৫)”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *